Unknown Unknown Author
Title: ইসলামে সুদ কি হালাল, নাকি হারাম ? (পর্ব- ১)
Author: Unknown
Rating 5 of 5 Des:
ইলাহী বিধান  যারা সুদ খায়, তারা তার ন্যায় (কবর থেকে) উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়। এটা এ জন্য যে, তারা বলে, বেচা-কেনা সু...

ইলাহী বিধান 

যারা সুদ খায়, তারা তার ন্যায় (কবর থেকে) উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়। এটা এ জন্য যে, তারা বলে, বেচা-কেনা সুদের মতই। অথচ আল্লাহ বেচা-কেনা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। অতএব, যার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে উপদেশ আসার পর সে বিরত হল, যা গত হয়েছে তা তার জন্যই ইচ্ছাধীন। আর তার ব্যাপারটি আল্লাহর হাওলায়। আর যারা ফিরে গেল, তারা আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে স্থায়ী হবে।                                            (সূরা বাক্বারাহ ২৭৫ আয়াত)

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং (লোকদের নিকট) তোমাদের সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও যদি তোমরা ঈমানদার হও। আর যদি তোমরা এরূপ না কর (সুদ না ছাড়) তবে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের তরফ থেকে যুদ্ধ ঘোষণা কবুল করে নাও। কিন্তু যদি তোমরা তোওবা কর, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই। তোমরা কারো উপর অত্যাচার করবে না এবং নিজেরাও অত্যাচারিত হবে না।                                                                                               (সূরা বাক্বারাহ ২৭৮ ২৭৯ আয়াত)

নববী বিধান 

হযরত জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল (সাঃ) সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং তার উপর সাক্ষীদ্বয়কে অভিশাপ করেছেন, আর বলেছেন, ‘‘ওরা সকলেই সমান।’’
(মুসলিম ১৫৯৭নং মিশকাত )

তবে ব্যবসা মাত্রেই হালাল নয়। হারাম বস্ত্তর ব্যবসা, হারাম মিশ্রিত বা সন্দিগ্ধ ব্যবসা তথা হারাম উপায়ে ব্যবসা অবশ্যই হারাম। আর যা হারাম তার সহায়তা করাও হারাম।

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
তোমরা সৎ ও আল্লাহভীরুতার কাজে একে অন্যের সহায়তা কর এবং পাপ ও অন্যায় কাজে পরস্পরকে সাহায্য করো না।                                                                             (সূরা মাইদাহ ২ আয়াত)

আর আল্লাহর রসূল (সাঃ) যেমন মদখোর ও সূদখোরকে অভিশাপ করেছেন তেমনি অভিশাপ করেছেন তার কোন প্রকার সহায়ককেও।
 সুতরাং হারাম ব্যবসায় পুঁজিবিনিয়োগ করাও হারাম। যেহেতু ব্যাংকের ব্যবসা সূদী ব্যবসা; না মানলেও সন্দিগ্ধ ব্যবসা নিশ্চয়ই। ব্যাংক প্রত্যক্ষভাবে শোষণ না করলেও পরোক্ষভাবে করে। সকলের জানতে না করলেও অজানতে করে।

 মুশরিকদের নিকট কিছু বৈধ জিনিস ক্রয় করা বা উপঢৌকন গ্রহণ করা বৈধ হলেও তাদের নিকট থেকে হারাম জিনিস যেমন মদ, শুকরের গোশত তাদের যবেহকৃত গোশত প্রভৃতি ক্রয় করা বা উপঢৌকন গ্রহণ করা অবশ্যই হালাল নয়।

 স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সন্তষ্টিচিত্তে কেউ যদি অবৈধ মাল বা চুরির মাল দেয়, তবে জেনেশুনে তা গ্রহণ করা কি বৈধ? একদা হযরত আবু বকর (রাঃ) এর এক ক্রীতদাস তার জাহেলিয়াতে ভাগ্যগণনার বাকী থাকা পারিশ্রমিক আদায় পেলে তা থেকে আবু বকর (রাঃ) ভক্ষণ করে ফেললেন এবং পরে জানতে পেরে তিনি সমস্ত খাদ্য বমি করে ফেললেন।                                              (বুখারী ,মিশকাত ২৭৮৬নং)

 মুসলমানদের উন্নতির বহু পথ খোলা। নাই বা অবলম্বন করল ঐ অলস অকর্মণ্যদের অসৎ পথ। অবৈধ ও অসৎ অর্থ-ব্যবস্থা প্রণয়ন করে যারা উন্নত নাইবা তাকালো তারা তাদের দিকে?

আল্লাহ যে বলেন,
‘‘আমি অবিশ্বাসীদের কতককে পরীক্ষা করার জন্য পার্থিব জীবনের সৌন্দর্যস্বরূপ ভোগবিলাসের যে উপকরণ দিয়েছি তার প্রতি তুমি কখনো দৃক্পাত করো না। তোমার প্রতিপালক প্রদত্ত জীবনোপকরণ হল উৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী।’’                                                                             (সূরা ত্বা-হা ১৩১ আয়াত)

তাদের নবী (সাঃ) যে বলেন,
‘‘সূদের (উন্নতির) পরিমাণ যত বেশীই হোকনা কেন পরিণামে তা কম হতে বাধ্য।’’
(আহমদ১/৩৯৫, ইবনে মাজাহ ২২৭৯ নং)

তাছাড়া মুসলিমদের প্রধান লক্ষ্য আখেরাত। সুতরাং যে পার্থিব উন্নয়নে আখেরাত বরবাদ হয় তা কি প্রকৃত উন্নতি না অবনতি?

ইসলাম মানুষের সার্বিক কল্যাণের জন্য আল্লাহর এক অনুগ্রহ। তাতে রয়েছে পুঁজিবাদ ও কম্যুনিজামের মধ্যবর্তী এক ভারসাম্যপূর্ণ শাশ্বত অর্থব্যবস্থা। এরই অনুসরণে আছে মানুষের চির মঙ্গল।

 আল্লাহ তাআলা বলেন,
‘‘হে মানবমন্ডলী! পৃথিবীর বুকে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্ত্ত রয়েছে তা হতে তোমরা আহার কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। কারণ, সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সে তো কেবল তোমাদেরকে মন্দ ও অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেয় এবং সে চায় যে, তোমরা আল্লাহ সম্বন্ধে যা জানো না তা বল।’’                                                                             (সূরা বাকারাহ ১৬৮-১৬৯ আয়াত)

অতঃপর নবী (সাঃ) এমন লোকের কথা উল্লেখ করে বলেন, যে (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) লম্বা সফর করে তার অবস্থা আলুথালু এবং ধূলিমলিন। সে আকাশ দিকে তার হাত দুটিকে তুলে দুআ করে, ‘হে আমার প্রতিপালক! হে আমার প্রভু!--’ অথচ তার আহার্য হারাম, তার পানীয় হারাম তার পরিধেয় বস্ত্র হারাম, তার দেহের রক্ত-গোশত হারাম। সুতরাং তার দুআ আর কিরূপে কখন কবুল হতে পারে?
(মুসলিম, মিশকাত ২৭৬০নং)
‘‘(কুরআন হাদীসে) হালাল কি তা স্পষ্ট এবং হারাম যা তাও স্পষ্ট। কিন্তু এ উভয়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দিগ্ধ বিষয়াদি। যা বহু লোকেই চেনে না।  অতএব যে ব্যক্তি ঐ সকল সন্দিগ্ধ বিষয়াদি থেকে বাঁচতে পারে, সে তার দ্বীন ও সম্ভ্রমকেও বাঁচিয়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি সন্দিগ্ধ বিষয়াবলীতে আপতিত হয় সে হারামে আপতিত হয়---।’’                                                             (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ২৭৬২নং)



About Author

Advertisement

Post a Comment

 
Top